দেশের অন্যতম রফতানি খাত টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণ বা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বিলম্বিত করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজধানীর প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে গতকাল ‘বাংলাদেশে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রভাব ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ অভিমত প্রকাশ করেন বক্তারা। আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের কারিগরি সহায়তায় ও মানবাধিকার সংস্থা নাগরিক উদ্যোগ বাংলাদেশের আয়োজনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন হতে যাচ্ছে জানিয়ে থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের জ্যোষ্ঠ গবেষক সানিয়া রিড স্মিথ বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। গত এক বছরে বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনীতি ও বাণিজ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তনের চিন্তা গ্র্যাজুয়েশন করার সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়ে তৎকালীন সরকার করতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েশন করলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় গ্র্যাজুয়েশন বিলম্ব করাই যৌক্তিক।’
তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন হবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জাপানের মতো দেশগুলো ট্যারিফ আরোপ করবে। যেসব দেশের সঙ্গে এখন বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে, সেখানে সুবিধাগুলো আর পাবে না বাংলাদেশ। কারণ তখন এ দেশকেও গ্র্যাজুয়েট হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে।’
এ অবস্থায় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গ্র্যাজুয়েশনের সময় বিলম্বিত করা যেতে পারে বলে অভিমত দিয়েছেন সানিয়া রিড স্মিথ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ চাইলে এখানে জাতিসংঘের ডেভেলপমেন্ট পলিসি কমিটির মূল্যায়ন, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের অনুমোদন এবং সাধারণ পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে সময় চাইতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের গ্র্যাজুয়েশন বিলম্বিত করেছে। সরকার নিজেদের স্বার্থে এ সুবিধা নিতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কৃষি ও মৎস্য খাতের বাণিজ্যে ভবিষ্যতে ব্যাপক ছাড় দিতে হবে বলে মনে করেন থার্ড ওয়ার্ল্ড নেটওয়ার্কের গবেষক রঞ্জা সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, ‘এমনিতে বাংলাদেশে কৃষি ও মৎস্য খাতে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দেয়া হয়। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর কৃষি ভর্তুকি কাট (ছাঁটাই) করা হয় না। একই অবস্থা মৎস্য খাতেও। এ খাতে তুলনামূলক কম ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। অথচ মৎস্যজীবীদের ভর্তুকি সবচেয়ে বেশি দরকার। বিদেশী বাজারের জন্য মৎস্য খাতে এফটিএ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
সেমিনারে আরো বক্তব্য দেন মেধাস্বত্ব আইন বিশেষজ্ঞ তাসলিমা জাহান ও সাংবাদিক আসজাদুল কিবরিয়াসহ অনেকে।